আজ মঙ্গলবার| ২৫ জুন, ২০২৪| ১১ আষাঢ়, ১৪৩১
আজ মঙ্গলবার | ২৫ জুন, ২০২৪

হত্যা মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ | 61 বার

হত্যা মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নে একটি হত্যা মামলার ৪ সাক্ষীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দুইজন সংবাদকর্মী ও স্থানীয় দুই ব্যাক্তি সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সখিপুর ইউনিয়নের বেপারী কান্দির বাসিন্দা দেলোয়ার ভূইয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগম ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মৃত খলিল মালের ছেলে বাদশা মান্দ (৪৫), বারেক মান্দের ছেলে রুহুল আমিন জুয়েল (৩২), ইয়াসিন লস্করের ছেলে সজিব লস্কর (৩৫), মৃত আলীরাজ মোল্যার ছেলে মজিদ মােল্লা (৪৫)। আসামীরা সবাই সখিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মামলার এজহার ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ১৭ জুলাই ২০২০ তারিখে সখিপুর টু আরশিনগর সড়কের ডাকবাংলা এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এ সময় চরসেনসাস ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন মোল্যা নামে (৩০) এক মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রন হারিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে স্বজনদের এমন দাবির প্রেক্ষিতে কোন প্রকার মামলা ও ময়না তদন্ত ছাড়াই সুমনের লাশ দাফনের অনুমতি দেয় পুলিশ। কিন্তু ঘটনার একদিন পর স্থানীয়রা জানায়, দেলোয়ার ভূইয়া নামে স্থানীয় এক সিএনজি চালকের সিএনজির সাথে ধাক্কা লেগে সুমনের মৃত্যু হয়েছে।

পরে ঐ সাক্ষী অনুযায়ী ১৩ আগষ্ট ২০২০ নিহত সুমনের মা তাসলিমা বেগম শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনাটি তদন্ত করে সুষ্ঠ বিচারের আবেদন জানায়। আর ঘটনার সাক্ষী হিসেবে বাদশা মান্দ (৪৫), রুহুল আমিন জুয়েল (৩২), সজিব লস্কর (৩৫), মজিদ মােল্লার (৪৫) নাম উল্লেখ্য করে। এর মধ্যে রুহুল আমিন জুয়েল ও সজিব লস্কর ঐ এলাকায় বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদদাতা হিসেবে কাজ করে।

পরে ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে সখিপুর থানা পুলিশকে মামলা নিতে আদেশ দেয় আদালত এবং ১৪ আগষ্ট ২০২০ মামলা নেয় সখিপুর থানা পুলিশ। মামলায় সখিপুর ইউনিয়নের বেপারী কান্দির বাসিন্দা রুক্কু ভূইয়ার ছেলে সিএনজি চালক দেলোয়ার ভূইয়া (৫০) কে আসামী করা হয়। মামলার একদিন পর তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। একই সাথে একমাস পর আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। মূল্যত, এরপর থেকেই মামলার সাক্ষীদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দেলোয়ার ভূইয়ার পরিবার।

চাঁদাবাজি মামলার দুই আসামী সংবাদকর্মী রূহুল আমিন জুয়েল ও সজিব লস্কর বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা মামলাটি করেছে নিহত সুমনের মা। মামলায় আমাদের অনুমতি ছাড়াই সাক্ষী করা হয়েছে, এসবের কিছুই আমরা জানি না। কিন্তু দোলোয়ার ভূইয়ার পরিবার মনে করেছে, আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করতে উৎসাহিত করেছি। তাই ক্ষোভে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা করেছে।

অপর আসামী মজিদ মোল্যা বলেন, যেটা সত্য দেখেছি সেটাই বলেছি। দেলোয়ার ভূইয়ার সিএনজির সাথে ধাক্কা লেগে সুমন মোল্যা নিহত হয়েছে। কিন্তু সত্য কথা বলায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা করেছে। আমরা গরীব মানুষ।

কিন্তু মামলার এজহারে সেলিনা বেগম বলেছেন, তার স্বামী দেলোয়ার ভূইয়ার সিএনজির সাথে সুমনের গাড়ির কোন ধাক্কা লাগেনি। ঘটনার পর আসামীরা ভয় দেখিয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি করেছিল। সে টাকা না পেয়ে তারা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা