আজ মঙ্গলবার| ২৫ জুন, ২০২৪| ১১ আষাঢ়, ১৪৩১
আজ মঙ্গলবার | ২৫ জুন, ২০২৪

শরীয়তপুরে সিজারের স্থানে সেলাই করেন এসিস্ট্যান্ট, বিছানায় কাতরাচ্ছে রোগী

রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ | 51 বার

শরীয়তপুরে সিজারের স্থানে সেলাই করেন এসিস্ট্যান্ট, বিছানায় কাতরাচ্ছে রোগী

শরীয়তপুরে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে ২৬ দিন যাবৎ বিছানায় কাতরাচ্ছে চৈতী আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতি মা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন চৈতির বাবা ইমাম হোসেন নক্তি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন সিভিল সার্জন।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, চৈতি আক্তারের সন্তান প্রসব করানোর জন্য গত ২৮ আগষ্ট দুপুর ১২ টায় শরীয়তপুর জেলা শহরের নুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে ডাঃ সৈয়দা শাহিনুর নাজিয়া ওইদিন রাতে তাকে সিজার করেন। সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন চৈতী।

অভিযোগ রয়েছে, সিজার চলাকালিন সময় ডাঃ সৈয়দা শাহিনুর নাজিয়া অন্যমনস্ক ছিলেন। যার কারণে সিজারের কাটা জায়গায় রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মোবাইলে আলাপ আলোচনা করতে ব্যর্থ হয়। পরে তিনি সিজারের স্থানে সেলাই না দিয়ে তার এসিস্ট্যান্টকে সেলাইয়ের দায়িত্ব দিয়ে তিনি অপারেশন রুম থেকে বেরিয়ে যান। তখন তার এসিস্ট্যান্ট অপারেশনের স্থান সেলাই করে প্রসূতি মা চৈতীকে বেডে নিয়ে যায়।

৩১ আগস্ট নূর জেনারেল হাসপাতাল থেকে চৈতীকে ছারপত্র দেয়া হয়। হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়ি নিয়ে গেলে সিজারের স্থান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ডাক্তার নাজিয়াকে জানালে তিনি কোন সমস্যা হবে না বলে আস্বস্থ করেন। পরবর্তীতে চৈতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে ডাক্তার তাকে নূর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। ৪ সেপ্টেম্বর চৈতিকে নূর জেনারেল হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে ভর্তি হতে বলেন। পূনরায় ভর্তি করার পর সিজারের স্থানে ডাঃ প্রসেনজিত রায় পুনরায় আবার অপারেশন করেন।

পূনরায় অপারেশনের পর সেলাই না করে অপারেশন থিয়েটার চৈতিকে কেবিনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্বজনরা জিজ্ঞাসা করলে হাসপাতালের স্টাফরা জানায় ভিতরের ঘা না শুকানো পর্যন্ত সেলাই করা যাবে না। পরে ডাঃ সৈয়দা শাহিনুর নাজিয়াকে জানানো হলে তিনি কোন গুরুত্ব দেননি। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারাও বিষয়টির কোন গুরুত্ব দেয়নি। চৈতী তখন ব্যথায় আর্তনাদ করতে থাকলে ডাঃ প্রসেনজিত রায় তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন।

পরে চৈতির জীবন বাঁচানোর জন্য তার স্বজনরা ৭ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকায় নিয়ে আনোয়ার খান মর্ডাণ মেডিক্যালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা দেখে তাদের জানায় চৈতিকে সঠিক ভাবে অস্ত্রপচার করা হয়নি। সেখানে দুই লাখ টাকা খরচ করে ১০ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এখনো সুস্থ হয়নি চৈতী। সে এখনো অন্যের সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠে দাড়াতে পারছেনা। ব্যথার তীব্র যন্ত্রনায় বিছানায় শুয়ে এখনও কাতরাচ্ছে প্রসূতি চৈতী।

বৃহস্পতিবার চৈতিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চৈতি ও নবজাতক কন্যা পাশাপাশি শুয়ে আছে। এটাই চৈতির প্রথম সন্তান। নবজাতক সন্তান সুস্থ থাকলেও বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে চৈতী। সে কারো সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারছেন না।

চৈতির বাবা ইমাম হোসেন নক্তি অভিযোগ করে বলেন, নূর জেনারেল হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিতে নিয়ে আমার মেয়ের যায়যায় অবস্থা। ডা: সৈয়দা শাহিনূর নাজিয়ার ভূল অপারেশন ও এসিস্ট্যান্ট দিয়ে সেলাই করার কারণে সিজারের জায়গা দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পরে আবার নূর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে আবার অপারেশন করার কারণে পচন ধরে যায়। তখন আমরা মেয়ে ব্যথার তীব্র যন্ত্রণায় ডাক-চিৎকার করলে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোন গুরুত্ব দেয়নি। পরে আবার প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল করার পর আমার মেয়েকে তারা ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। নিরুপায় হয়ে আমার মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আনোয়ার খান মর্ডাণ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে ১০ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে আসি। সেখানে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে টাকা যোগাতে হয়েছে। কিন্তু এখনো আমার মেয়ে বিছানা থেকে উঠতে পারছেনা। ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ডা: সৈয়দা শাহিনুর নাজিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে নূর জেনারেল হাসপাতালে তার চেম্বারে গেলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ড: আব্দুল হাদী মোহাম্মদ শাহ পরান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি এখনও রিপোর্ট জমা দেননি। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা